ফেসবুকে আমি

Bangla Poem & SMS on Facebook Join here & submit your sms, poems.
রোমান্টিক কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রোমান্টিক কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আমি জনম জনম চাইব এমন

আমি জনম জনম চাইব এমন
দিনেরি আগমন, যখন তুমি এসে,
খুলে দিয়ে মনের সব ক’টা বাঁধন
ভরিয়ে তুলবে তারে মুক্তির আশ্বাসে।
চিত্ত জানি বদ্ধ এমন এক আবর্তে
যার থেকে পারবনা বেরোতে বাইরে
যতক্ষণ না পারছি প্রতিজ্ঞা করতে
প্রাণ চায় যারে বরণ করব তারে।


জানি বাধা বিপত্তি আসে সহস্র শত
তবু দমলে চলবে না তার সামনে
কারণ কিছুই নেই প্রণয়ের মত
যা দেয় সুখ সতত শয়নে স্বপনে।
প্রেম ব্যতিরেকে জীবন যায় কি গড়া
নাকি প্রাণের বিকাশ হয় প্রেম ছাড়া।


- অরুণ কারফা

মেঘকে স্পর্শ করতে ইচ্ছা করে...

মেঘকে স্পর্শ করতে ইচ্ছা করে।
ইচ্ছা করে খুব ছুঁয়ে দেখতে।
কেমন হবে? তুলার মত নরম? হাত দিতেই পানি হয়ে গলে গলে পড়বে?
হিম শীতল হবে সেই পানি?

চাই না পাখি হতে।
শুধু চাই একবার,
বার বার না,
ঐ শুভ্রতায় হারাতে।
একটা প্রশ্ন নিয়ে!
মেঘকে কি ধরা যায়?
ধরে রাখা যায়?

অধরা থাকুক এই মেঘ।
থাকুক চোখের সীমানায়,
কল্পনার ভেতরে,
অসীমের ওপারে।

কানে হেডফোন। একটানা বেজে চলেছে পলবাসা সিদ্দিকের গান ...

"এই দিগন্ত, চোখের সীমানায়
কেউ কি ডাকে?
নিশ্চুপ গভীর মায়ায়?"

পুনশ্চঃ
কেউ একজন ডাকছে। ফিস ফিস করে।
গভীর নিশ্চুপ মায়ায়। মেঘের আড়াল থেকে।
শুনতে পাচ্ছি।
আমি পরিস্কার শুনতে পাচ্ছি..

যেদিকে দুচোখ চায়

যেদিকে দুচোখ চায়
শুকনো পাতাই দেখা যায়
তারি মাঝে সোনার সাজে
কয়েক বিন্দু শিশির লাজে
ঘুচিয়ে রাতের কালো
ছড়াচ্ছে খুশীর আলো।

গড়নখানা মুক্তোর মত
তাইতো তৃনকুলও ব্যস্ত
অবনত করতে মাথা,
যা দেখে ভেজা পাতা
এতই সিক্ত ভীষণ
অতিথির মত স্বতস্ফূর্ত
জানাচ্ছে সম্ভাষণ।

এরই মাঝে রবির কিরণ
চমকিত করে শিশিরের নয়ন
ঝলসিত করল পরিবেশ এমন
শিরশির করে উঠল কেঁপে
উত্তুরে হাওয়ার কোমল মন।

- অরুণ কারফা।

ইচ্ছে করে অনেক দূরে

ইচ্ছে করে অনেক দূরে
জনবসতিকে ছেড়ে ছুড়ে
সেই প্রান্তরে যাই,
যেখানে ভরা গাছপালায়
আর সবুজের অবাধ মেলায়
জন মানব বিশেষ নাই।

যেখানে শ্যামল বন

আর তার মন
ছড়িয়ে দিয়ে প্রাণের স্পন্দন
ভরিয়ে তোলে আকাশ বাতাস,
তিরতির করে পাতাগুলো কেঁপে
প্রকৃতিতে দেয় নিজেদের সঁপে
ঝরে পড়ার পূর্বাবধি
এমনই সে বিশ্বাস।

হিসেবের তবু ইচ্ছে জাগে মনে
কি পাব কি দিয়ে বিপণনে
শান্তি আসবে কোলাহলের স্থানে
আর বিশ্বাসঘাতকতা
শব্দটা হবে দুর্লভ,
নগর সভ্যতার আনাচে কানাচে
যে চাকচিক্য ঘুরছে জীবনে
বঞ্চিত হয়ে তা থেকে ক্ষণে
শুধু শোনা যাবে পাখীর কলরব।


- অরুণ কারফা।

ভালবাসার জয়

এত ফুল ফুটেছে তবু
ভালবাসার শেষ নেই
চিন্তিত মালী জল ঢেলে যায়
ঢালত যেমন অতিতেই।

কাঠের স্তূপ জমেই চলেছে
তবু থামার নাম নেই
কাঠুরিয়া কাঠ কেটেই চলেছে
আগের মত গতিতেই।

এ যেন এক প্রতিযোগিতা
কে পায় গাছের চিত্ত
কাঠুরিয়া কাঠ পেলেও অজস্র
মালীই হয় তার মিত্র।

- অরুণ কারফা।

আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি

আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি
আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে--
তুমি জান না,
আমি তোমারে পেয়েছি অজানা সাধনে॥

সে সাধনায় মিশিয়া যায় বকুলগন্ধ,
সে সাধনায় মিলিয়া যায় কবির ছন্দ--
তুমি জান না, ঢেকে রেখেছি তোমার নাম
রঙিন ছায়ার আচ্ছাদনে॥

তোমার অরূপ মূর্তিখানি
ফাল্গুনের আলোতে বসাই আনি।
বাঁশরি বাজাই ললিত-বসন্তে,
সুদূর দিগন্তে
সোনার আভায় কাঁপে তব উত্তরী
গানের তানের সে উন্মাদনে॥♥

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমার জন্য

তোমার চোখে অন্য মানুষ আমি
তোমার জন্য তাই নতুন জীবন খুঁজি ।
তোমার জন্য শীতল স্নিগ্ধ এক ভোর ,
তোমার জন্য খুলি অরুণোদয়ের দোর ।
তোমার জন্য ব্যাথার এক বিনিদ্র নির্মাণ ,
তোমার জন্য সুকোমল চিত্তে উন্মেচিত গান ।
তোমার জন্য হা হা কার করে হৃদয়ের মরুদ্যান ,
তোমার জন্য মেঘ বালিকার অজস্র অভিমান ।
তোমার জন্য হৃদয়ে ভাসমান সাদা - কালো মেঘ ,
তোমার জন্য এই জীবনের অনন্ত বিচ্ছেদ ।
তোমার জন্য বিনিদ্র রাত্রিতে বৃথাই কাব্য লিখা ,
তোমার জন্য সজল চোখে দুরের আকাশ দেখা ।
তোমার জন্য হৃদয়ে বিষাদে উপাখ্যান ,
তোমার জন্য সৃষ্টিময় জীবনের আলো অনির্বাণ ।
তোমার জন্য রাত জাগা একটি পাখি ,
কেন বিনিদ্র হয় তার দুটি আঁখি ??

- রুবিনা মজুমদার ।

পদ চিহ্ন

নিশুতি রাত জেগে,
শিশির ঝরে টিনের চালায়,
টুপটাপ টুপটাপ,
শিশিরের শব্দ,
বকুলের গন্ধ।

মাঝ রাতে মিটিমিটি
আলো জ্বলে কার ঘরে?

আধো জাগ্রত,
আধো ঘুম ঘুম চোখে,
কে যেন আসে,
আমার স্বপ্নের মাঝে।

আধার রাতে,
পারিনা তারে চিনতে,
কথা হয় না তার সাথে,
চায়না সে পিছু ফিরে।

ভোর বেলা দার খুলে,
চেয়ে দেখি চোখ মেলে,
কার যেন পদ চিহ্ন?
আমার বকুল তলাতে!!! 

অচেনা প্রিয়া

শোন, তুমি কি জান?
তোমাকে ভাল লাগত কারো?

তুমি কি জান?
তোমায় নিয়ে লিখত
কাগজ, কলম সংখ্যা বিহীন
কবিতা কাব্য হাজারো।

তুমি কি জান?
তোমায় সে খুজে বেড়াত
উৎসুক চোখে,
হাজার হাজার সন্ধ্যা তারায়;
নীল আকাশের দূর অজানায়।

আজো তুমি জানলেনা;
তোমার পদচারনায়
কেপে উঠে আমার এ হিয়া,
তুমি জানলেনা,
আমি যে তোমার
হৃদয়ের আড়ালে অচেনা প্রিয়া।


Mahjuba Dipa (১৩ই মে, ২০০৬)

বনলতা সেন

বনলতা সেন
জীবনানন্দ দাস


হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি আরো দূর অকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমার দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন|
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের পর
হাল ভেঙ্গে যে – নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি - দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তা’রে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন|

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌঙের গন্ধমুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে–সব নদী ফুরায় এ-জীবনের সব লেন দেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন|

চোখের জলে ঢেউ দিও না...

চোখের জলে ঢেউ দিও না,
চোখটা প্রেমের নদী;
ভালোবাসায় সাতার কেটো
পারো তুমি যদি।
আমার ও তো ইচ্ছা করে শ্রাবণ মেঘের রাতে,
কন্ঠ ভরা গান নিয়ে কেউ জাগুগ আমারি সাথে।
আজো আমার স্বপ্ন তুমি, তুমি নিরবধি,

ভালোবাসায় সাতার কেটো
পারো তুমি যদি।

''ইচ্ছে ছিলো''

ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সম্রাজ্য বাড়াবো,
ইচ্ছে ছিলো তোমাকেই সুখের পতাকা করে,
শান্তির কপোত করে হদয়ে উড়াবো;
ইচ্ছে ছিলো নদীর বক্ষথেকে জলের শব্দ তুলে রাখবো তোমার দুই লাজুক চক্ষুতে;
জন্মাবধি তোমার শীতল চোখ তাপ দেবে আমার দুচোখে,
ইচ্ছে ছিলো রাজা হবো,
তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সম্রাজ্য বারাবো;
আজ দেখি, রাজ্য আছে, রাজা আছে, ইচ্ছে আছে, শুধু তুমি অন্য ঘরে।

রেজাউল করিম বাবু

**নিস্বঃঙ্গতার আর্তনাদ**

হে ঐশ্বর্যময়ী'' আমাকে মমতা দাও, কিঞ্চিত বিশ্বাস দাও,
প্রেম দাও, স্পর্শ দাও, শুদ্ধতম ভালবাসা দাও।
এ বিদ্ধস্ত নগরে আমি বড় একা।
অবিশ্বাস আর প্রতারনা বুকে চেপে, আহত শোকার্ত দেহ নিয়ে বড় নিস্বঃঙ্গ আটকা পরে আছি।।
''হে পরম পুন্যবতী'' নুন্যতম আশ্বাস শুদ্ধতা যদি দাও,
কিঞ্চিত বিশ্বাস ভালবাসা যদি দাও, দুঃস্বপ্নের অন্তহীন অন্ধকার থেকে,
এই পঙ্গু, সদাসন্ত্রস্ত অস্থির জনপদ থেকে, তোমাকে নির্ভুল উদ্ধার আশ্রয় দেবো,
নিরাপত্তা দেবো, স্বস্থি দেবো, স্বপ্ন দেবো, স্বপ্নময় ভবিষ্যত দেবো,
দেবো স্বাশ্থবান শিশু, অনন্ত সাহস,।।

রেজাউল করিম (বাবু)

ভালোবাসার সংজ্ঞা...

রফিক আজাদ

ভালোবাসা মানে দু'জনের পাগলামি,
পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা।
ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া,
বিরহ বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি।
ভালোবাসা মানে একে অপরের প্রতি,
খুব করে ঝুঁকে থাকা।
ভালোবাসা মানে ব্যাপক বৃষ্টি, বৃষ্টির একটানা,
ভিতরে-বাহিরে দু'জনের হেঁটে যাওয়া।
ভালোবাসা মানে ঠান্ডা কফির পেয়ালা সামনে,
অবিরাম কথা বলা।
ভালোবাসা মানে শেষ হয়ে যাওয়া কথার পরেও,
মুখোমুখি বসে থাকা।।
Related Posts with Thumbnails