ফেসবুকে আমি

Bangla Poem & SMS on Facebook Join here & submit your sms, poems.
সঞ্চয়িতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সঞ্চয়িতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

স্বপ্নে...

সুন্দর, তুমি এসেছিলে আজ প্রাতে
অরুণবরন পারিজাত লয়ে হাতে।
নিদ্রিত পুরী, পথিক ছিল না পথে,
একা চলি গেলে তোমার সোনার রথে-
বারেক থামিয়া, মোর বাতায়নপানে
চেয়েছিলে তব করুণ নয়নপাতে।।

স্বপন আমার ভরেছিল কোন গন্ধে,
ঘরের আঁধার কেঁপেছিল কী আনন্দে,
ধুলায়-লুটানো নীরব আমার বীণা
বেজে উঠেছিল অনাহত কী আঘাতে।।

কতবার আমি ভেবেছিনু, 'উঠি উঠি,
আলস ত্যজিয়া পথে বাহিরাই ছুটি।'
উঠিনু যখন তখন গিয়েছ চলে-
দেখা বুঝি আর হল না তোমার সাথে।।

তিনধরিয়া ১৭ জ্যৈষ্ঠ্ ১৩১৭

কৃপন...

আমি ভিক্ষা করে ফিরতেছিলেম গ্রামের পথে পথে,
তুমি তখন চলেছিলে তোমার স্বর্ণরথে।
অপূর্ব এক স্বপ্নসম লাগতেছিল চক্ষে মম-
কী বিচিত্র শোভা তোমার কী বিচিত্র সাজ।
আমি মনে ভাবতেছিলেম এ কোন্‌ মহারাজ্।।

আমি শুভক্ষনে রাত পোহালো, ভেবেছিলাম তবে
আজ আমারে দ্বারে দ্বারে ফিরতে নাহি হবে।
বাহির হতে নাহি হতে কাহার দেখা পেলেম পথে,
চলিতে রথ ধনধান্য ছড়াবে দুই ধারে-
মুঠা মুঠা কুড়িয়ে নেব, নেব ভারে ভারে।।

দেখি সহসা রথ থেকে গেল আমার কাছে এসে,
আমার মুখ-পানে চেয়ে নামলে তুমি হেসে।
দেখে মুখের প্রসন্নতা জুড়িয়ে গেল সকল ব্যাথা,
হেনকালে কিসের লাগি তুমি অকস্মাৎ
‌‍'‌আমায় কিছু দাও গো' বলে বাড়িয়ে দিলে হাত।।

মরি, এ কী কথা রাজাধিরাজ, 'আমায় দাও গো কিছু'-
শুনে ক্ষণকালের তরে রইনু মাথা-নিচু।
তোমার কিবা অভাব আছে ভিখারি ভিক্ষুকের কাছে!
এ কেবল কৌতুকের বশে আমার প্রবঞ্চনা।
ঝুলি হাতে দিলেম তুলে একটি ছোটো কণা।।

যবে পাত্রখানি ঘরে এনে উজাড় করি-একি,
ভিক্ষা-মাঝে একটি ছোট সোনার কণা দেখি!
দিলেম যা রাজ-ভিখারির স্বর্ণ হয়ে এল ফিরে-
তখন কাদি চোখের জলে দুটি নয়ন ভ'রে,
তোমায় কেন দিই নি আমার সকল শূন্য করে?।

কলিকাতা ৮ চৈত্র [১৩১২]

পুনরাবর্তন

আবার যদি ইচ্ছা কর আবার আসি ফিরে
দু:খ-সুখের ঢেউ-খেলানো এই সাগরের তীরে।
আবার জলে ভাসাই ভেলা, ধুলার পরে করি খেলা,
হাসির মায়ামৃগীর পিছে ভাসি নয়ননীরে।।

কাটার পথে আধার রাতে আবার যাত্রা করি,
আঘাত খেয়ে বাচি কিম্বা আঘাত খেয়ে মরি।
আবার তুমি ছদ্মবেশে আমার সাথে খেলাও হেসে-
নতুন প্রেমে ভালোবাসি আবার ধরণীরে।।

ব্যর্থ

যদি   প্রেম দিলে না প্রাণে
কেন  ভোরের আকাশ ভরে দিলে   এমন গানে গানে?
কেন তারার মালা গাথা,
কেন ফুলের শয়ন পাতা,
কেন দখিন হাওয়া গোপন কথা জানার কানে কানে?।

যদি প্রেম দি্লে না প্রাণে
কেন আকাশ তবে এমন চাওয়া চায় এ মুখের পানে?
তবে ক্ষণে ক্ষণে কেন
আমার হৃদয় পাগল হেন,
তরী সেই সাগরে ভাসায় যাহার কূল সে নাহি জানে?

মার্জনা

প্রিয়তম, আমি তোমারে যে ভালোবেসেছি,
দয়া করে কোরো মার্জনা কোরো মার্জনা।
ভীরু পাখি আমি তব পিন্জ্ঞরে এসেছি,
তাই বম্বলে দ্বার কোরো না রুদ্ধ কোরো না।
যাহা-কিছু মোর কিছুই পারি না রাখিতে,
উতলা হৃদয় তিলেক পারি নি ঢাকিতে,
তুমি রাখো ঢাকি, তুমি করো মোরে করুণা-
আপনার গুণে অবলারে কোরো মার্জনা কোরো
মার্জনা।।

প্রিয়তম, যদি নাহি পারো ভালোবাসিতে
তবু ভালোবাসা মার্জনা কোরো মার্জনা।
দুটি আখিকোণ ভরি দুটি কণা হাসিতে
অসহায়-পানে চেয়ে না, বন্ধু, চেয়ো না।
সম্বরি বাস ফিরে যাব দ্রুতচরণে,
চকতি শরমে লুকার আধার মরণে,
দু হাতে ঢাকিব নগ্নহৃদয়বেদনা-
প্রিয়তম, তুমি অভাগীরে কোরে মার্জনা কোরো
মার্জনা।।

প্রিয়তম, যদি চাহ মোরে ভালোবাসিয়া
সুখরাশি মোর মার্জনা কোরো মার্জনা।
সোহাগের স্রোতে যাব নিরুপায় ভাসিয়া,
দুর হতে বসি হেসো না তখন হেসো না।
বাধির তোমারে নিবিড় প্রণয়শাসনে,
দেবীর মতন পুরাব তোমার বাসনা-
তখন, হে নাথ, গরবিরে কোরো মার্জনা কোরো
মার্জনা।।

ক্ষণমিলন...

পরম আত্মীয় ব'লে যারে মনে মানি
তারে আমি কতদিন কতটুকু জানি।
অসীম কালের মাঝে তিলেক মিলনে
পরশে জীবন তার আমার জীবনে।
যতটুকু লেশমাত্র চিনি দুজনায়
তাহার অনন্তগুন চিনি নাকো হায়।
দুজনের একজন একদিন যবে
বারেক ফিরাবে মুখ, এ নিখিল ভবে
আর কভু ফিরিবে না মুখামুখি পথে-
কে কার পাইবে সাড়া অনন্ত জগতে।
এ ক্ষণমিলনে তবে, ওগো মনোহর,
তোমারে হেরিনু কেন এমন সুন্দর।
মুহূর্ত-আলোকে কেন, হে অন্তরতম,
তোমারে চিনিনু চিরপরিচিত মম।।

প্রভাত উৎসব...

হৃদয় আজ মোর কেমনে গেল খুলি,
জগৎ আসি সেথা করিছে কোলাকুলি।
প্রভাত হল যেই কী জানি হল একি,
আকাশ পানে চাই কী জানি কারে দেখি।।

পুরবমেঘমুখে পড়েছে রবিরেখা,
অরুণরথচুড়া আধেক যায় দেখা।
তরুণ আলো দেখে পাখির কলরব,
মধুর আহা কিবা মধুর মধু সব।।

আকাশ, 'এসো এসো' ডাকিছ বুঝি ভাই-
গেছি তো তোরি বুকে, আমি তো হেথা নাই।
প্রভাত-আলো-সাথে ছড়ায় প্রাণ মোর,
আমার প্রাণ দিয়ে ভরিব প্রাণ তোর।

ওঠো হে ওঠো রবি, আমারে তুলে লও,
অরুনতরী তবু পুরবে ছেড়ে দাও।
আকাশপারাবার বুঝি হে পার হবে-
আমারে লও তবে, আমারে লও তবে।।
Related Posts with Thumbnails