ফেসবুকে আমি

Bangla Poem & SMS on Facebook Join here & submit your sms, poems.
বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মেঘকে স্পর্শ করতে ইচ্ছা করে...

মেঘকে স্পর্শ করতে ইচ্ছা করে।
ইচ্ছা করে খুব ছুঁয়ে দেখতে।
কেমন হবে? তুলার মত নরম? হাত দিতেই পানি হয়ে গলে গলে পড়বে?
হিম শীতল হবে সেই পানি?

চাই না পাখি হতে।
শুধু চাই একবার,
বার বার না,
ঐ শুভ্রতায় হারাতে।
একটা প্রশ্ন নিয়ে!
মেঘকে কি ধরা যায়?
ধরে রাখা যায়?

অধরা থাকুক এই মেঘ।
থাকুক চোখের সীমানায়,
কল্পনার ভেতরে,
অসীমের ওপারে।

কানে হেডফোন। একটানা বেজে চলেছে পলবাসা সিদ্দিকের গান ...

"এই দিগন্ত, চোখের সীমানায়
কেউ কি ডাকে?
নিশ্চুপ গভীর মায়ায়?"

পুনশ্চঃ
কেউ একজন ডাকছে। ফিস ফিস করে।
গভীর নিশ্চুপ মায়ায়। মেঘের আড়াল থেকে।
শুনতে পাচ্ছি।
আমি পরিস্কার শুনতে পাচ্ছি..

:: কেউ কথা রাখেনি ::

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী
আর এলোনা
পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।

মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর
তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো
সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর
খেলা করে!
নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমার মাথা এ ঘরের ছাদ
ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়
তিন প্রহরের বিল দেখাবে?

একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনো
লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরা
ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি
ভিতরে রাস-উৎসব
অবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরা
কত রকম আমোদে হেসেছে
আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!
বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও…
বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুই
সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসব
আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!

বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,
যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে
সেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে!
ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছি
দূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
এখনো সে যে-কোনো নারী।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না!

- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

ইতিহাস

কংক্রিটের শয্যা থেকে উঠে চোখ মেলে দেখি
চোখ ধাঁধানো সূর্য কিরণ আর মানুষের পায়চারি
বয়স তো অনেক হলো নেই কোন পিছুটান
৭১ এর যুদ্ধে হারিয়েছি আমি আমায়

আজ আমি চেয়ে দেখি চারিদিকে শুধু ধোকাবাজি
জন্মভ্রষ্ট কিছু মানুষের পাপাচিত্তের আস্ফলন

দেখেছিলাম অনাগত অতীত বুক ভরা নতুন এক স্বপ্ন
কল্পনায় তার বাস্তবায়ন দেখিনা তার চিরন্তন রূপায়ন
চিরস্থির ঐ নীল আকাশে লাল রক্তে আঁকা সীমানায়
রুখে দাঁড়াও উগ্র আগ্রাসনের সংবিধানের ইতিহাস

রাজপথে লাখো মানুষের দেখি পদচিহ্ন
ক্ষনিকের বজ্রকন্ঠে ভীত নাগরিক হৃদকম্পন
স্প্লিনটারে ঝাঝড়া আমার এই বক্ষ পিঞ্জর
নিস্তেজ চোখে ভাবি আমি কে দেবে আমায় কবর

আকস্মাৎ দেখি নিজেকে খেতে পাইনি আজ দিন অনেক
দেখি ক্ষুধার দুঃস্বপ্ন পাপাচিত্তের আস্ফলন।


- মালিহা। 

শামসু কোপায়, নাসির কোপায়,

শামসু কোপায়, নাসির কোপায়,
কোপ জানে মাশরাফিও,
কোপে কোপে মাঠ কাঁপিয়ে
জাত আমাদের চিনিয়ে দিও।
এই কোপেতে উঠুক কেঁপে
সব মোড়লের নরম গদি ;
এই কোপেতে গর্বে ফুলুক
বাংলাদেশের হাজার নদী।

- আল বোরহান

‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ

‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দোয়েলপাখি — চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম — বট — কাঠালের — হিজলের — অশখের করে আছে চুপ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;
মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে
এমনই হিজল — বট — তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ

দেখেছিল; বেহুলার একদিন গাঙুড়ের জলে ভেলা নিয়ে –
কৃষ্ণা দ্বাদশীর জোৎস্না যখন মরিয়া গেছে নদীর চরায় –
সোনালি ধানের পাশে অসংখ্য অশ্বত্থ বট দেখেছিল, হায়,
শ্যামার নরম গান শুনেছিলো — একদিন অমরায় গিয়ে
ছিন্ন খঞ্জনার মতো যখন সে নেচেছিলো ইন্দ্রের সভায়
বাংলার নদী মাঠ ভাঁটফুল ঘুঙুরের মতো তার কেঁদেছিলো পায়।’

- জীবনানন্দ দাশ।

স্বাধীনতা তুমি, শামসুর রহমান

স্বাধীনতা তুমি
শামসুর রহমান



স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান|
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল, ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা –
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা|
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল
স্বাধীনতা তুমি ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি|
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার|
স্বাধীনতা তুমি
মজুর যুবার রোদে ঝলসিত দক্ষ বাহুর গ্রন্থিল পেশী|
স্বাধীনতা তুমি
অন্ধকারের খাঁ খাঁ সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক|
স্বাধীনতা তুমি
বটের ছায়ায় তরুন মেধাবী শিক্ষার্থীর
শাণিত-কথার ঝলসানি-লাগা সতেজ ভাষণ|
স্বাধীনতা তুমি
চা-খানা আর মাঠে ময়দানে ঝড়ো সংলাপ।
স্বাধীনতা তুমি
কালবোশেখীর দিগন্ত জোড়া মত্ত ঝাপটা|
স্বাধীনতা তুমি
শ্রাবণে অকূল মেঘনার বুক
স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন
স্বাধীনতা তুমি
উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন|
স্বাধীনতা তুমি
বোনের হাতের নরম পাতায় মেহেদীর রঙ|
স্বাধীনতা তুমি
বন্ধুর হাতে তারার মতন জলজলে এক রাঙা পোষ্টার|
স্বাধীনতা তুমি
গৃহিনীর ঘন খোলা কালোচুল,
হাওয়ায় হাওয়ায় বুনো উদ্দাম|
স্বাধীনতা তুমি
খোকার গায়ের রঙিন কোর্তা
খুকীর অমন তুলতুলে গালে
রৌঙের খেলা|
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা|
Related Posts with Thumbnails